স্টাফ রিপোর্টারঃ-
এ বছরের বন্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বেড়িবাঁধ, ব্রিজ-কালভাট, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজারসহ ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতির মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় ২২ টি ব্রিজ-কালভার্টসহ প্রায় ৭০-৮০ কি. মি. পাকা ও আঁধাপাকা রাস্তার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে । ৫টি বড় ব্রিজ-কালভার্ট এবং ১৯ কি. মি. পাকা রাস্তা রয়েছে। বন্যায় ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তার ক্ষতি হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসিকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন। মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় আজ ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ্য কাজের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকার অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে প্রকল্প তৈরী করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকা পরিদর্শনে এসে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য ১২৫ কোটি টাকার বরাদ্ধ প্রদান করবেন বলে ঘোষনা দিয়েছে।
আজ উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও উপজেলা প্রকল্পবাস্তাবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে এবারের বন্যায় ৮টি ইউনিয়নের ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার, ফসলি জমি ও রাস্তা-ঘাটের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশী। বেশী ক্ষতিগ্রস্থ্য ইউনিয়ন হচ্ছে উপজেলার জামুর্কি, মহেড়া, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর ইউনিয়ন। এছাড়া মির্জাপুর পৌরসভা, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে বন্যার পানি না ঢুকলেও ভারি বৃষ্টিতে রাস্তা-ঘাটের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারনে বংশাই নদীর মির্জাপুর-পাথরঘাটা মির্জাপুর শহর রক্ষা বাঁধ, ফতেপুর বাজার, ফতেপুর ইচ্চ বিদ্যালয়, সুতানরী, থলপাড়া, চাকলেশ^র, গোড়াইল, গাড়াইল, যুকিকোপা, রশিদ দেওহাটা, ত্রিমোহন বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন ব্রিজ এলাকা, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার এবং লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, বহুরিয়া, কামারপাড়া ও নাগরপাড়া এলাকায় নদী ভাঙ্গনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া নদী ভাঙ্গনে বাড়ি-ঘর হারিয়ে সম্পুর্ন ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে দেড় শতাধিক পরিবার।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ্য রাস্তার মধ্যে কদিমধল্যা-বরাটি রাস্তা, শুভুল্যা-বরাটি রাস্তা, কুরনী-ফতেপুর রাস্তা, কাটরা-উফুলকী রাস্তা, বরাটি বাংগলা-রাস্তা, জামুর্কি-মহেড়া-ফতেপুর রাস্তা, কদিমধল্যা-ছাওয়ালী-বাসাইল রাস্তা, কুরনী-ইচাইল রাস্তা, মির্জাপুর-কামারপাড়া-ভাওড়া রাস্তা, পাহাড়পুর-বুদিরপাড়া-কামারপাড়া রাস্তা, দেওহাটা-বহুরিয়া রাস্তা, মির্জাপুর ওয়ার্শি-বালিয়া রাস্তা, মির্জাপুর-ভাদগ্রাম-নাগরপুর রাস্তা, লতিফপুর-গোড়াকি রাস্তা, নাগরপাড়া-ওয়ার্শি-মৈশামুড়া রাস্তা, মৈশামুড়া-মামুদপুর-আনাইতারা রাস্তাসহ প্রায় ৭০-৮০ কি. মি. পাকা, আঁধা পাকা রাস্তার ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পারদিঘী ব্রিজ, ত্রিমোহন বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন ব্রিজ, গুনটিয়া ব্রিজ, বরাটি ব্রিজ, আগধল্যা ব্রিজসহ ছোট বড় ২২টি ব্রিজ-কালভার্টে ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ্য ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তা ঘাটের দ্রুত সংস্কারসহ মেরামতের জোর দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বন্যায় যে সব এলাকায় রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ-কালভার্টের ক্ষতি হয়েছে ঐ সব এলাকার রাস্তা-ঘাট এবং ব্রিজ-কালভার্টের প্রকল্প তৈরী করে প্রায় ২০ কোটি টাকার বরাদ্ধ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকার ব্রিজ-কালভার্ট ও রাস্তার দ্রুত কাজ করা হবে।
এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ মো. একাব্বর হোসেন বলেন, এ বছর বন্যায় আমার নির্বাচনী এলাকায় রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, হাট বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে পান সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগন ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকা পরিদর্শন করে ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্ধ প্রদান করবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন। বরাদ্ধ পাওয়া সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকায় অগ্রাধিকার ভাবে কাজ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here