শামীম মিয়া(স্টাফ রিপোর্টার)

১৯৯৭ সাল । শ্রদ্ধেয় মিল্টন খন্দকার এর বাসায় গেলাম আমি গান করবো, গানের ক্যাসেট (এ্যালবাম) বের করবো সেই উদ্দেশ্যে । উনি আমার কন্ঠ পরিক্ষা করার জন্য বললেন “দুইটা গান গাও” এর মাঝেই ওখানে হাজির হলেন জনপ্রিয় শিল্পি শ্রদ্ধেয় মনির খান, পলাশ ও বিখ্যাত রিদমিস্ট লিটন ডি কস্টা ।ওনাদের দেখে আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম । বিশেষ করে লিটন ডি কস্টা ।ওনার বিশাল বড় দেহ ও লম্বা চুল দেখে ঘাবড়ে গেলাম । কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা । আমার গলা দিয়ে যেনো কথাই বেরোচ্ছেনা । তবুও গান তো গাইতে হবে পরিক্ষা তো দিতে হবে । আমি আবার তখন ব্যান্ডের গান ও গানের পাশাপাশি গিটার বাজানোও শিখি । কিন্তু হারমোনিয়াম বাজাতে পারিনা । আমাকে বলা হলো হারমোনিয়াম বাজিয়ে গাইতে । কিন্তু আমি হারমোনিয়াম বাজাতে অক্ষম । তাই হারমোনিয়াম ধরলেন শ্রদ্ধেয় মনির খান । শ্রদ্দেয় পলাশ ভাই ধরলেন তবলা । আমি গুরুজি মনির খানের দুইটা গান ও শ্রদ্ধেয় আইয়ুব বাচ্চুর ১টি গাইলাম । তখন আমি গুরুজির গান খুব গাইতাম ।বলতে গেলে গুরু মনির খানের গানই আমার প্রেরনা বাড়িয়ে দিতো । যাই হোক গান শুনে শ্রদ্ধেয় মিল্টন খন্দকার এবং শ্রদ্ধেয় মনির খান সহ সবাই আমার ভালো প্রশংসা করলেন এবং উৎসাহ দিলেন পাশাপাশি শ্রদ্ধেয় গুরুজি মনির খান আমাকে কিছু উপদেশ দিলেন । সেই উপদেশ মেনে এবং আপনাদের ভালোবাসায় আজ আমি শান্ত হতে পেরেছি ।
উপদেশগুলো হলোঃ বাংলার বুকে আরেকজন আজম খান আরেকজন জেমস আরেকজন আইয়ুব বাচ্চু হওয়া সম্ভব নয় তাই বৃথা চেষ্টা করোনা । গ্রাম বাংলার গান গাও,মাটির মানুষের গান গাও ।হয়তো তুমি সাফল্য পাবে । আজ হতে হারমোনিয়াম ধরো । তুমি নিজে হারমোনিয়াম বাজিয়ে যেদিন ফোক গান বা অন্য যে কোনো গান গাইতে পারবে সেদিন তুমি এ্যালবাম করার জন্য প্রস্তুতি নিও এবং আরো অনেক উপদেশমুলক কথা বললেন । কথা গুলো আমার ভালো লাগলো । ব্যাস মেনে নিলাম গুরুজির কথা । শুরু হলো আমার নতুন জীবন ব্যান্ড ছেড়ে চলে আসলাম আধুনিক গানে । পরেরদিন সাভার থেকে কিনে নিলাম হারমোনিয়াম । বিটিভির বিষিষ্ট পল্লিগিতি শিল্পি এস এম আব্দুল গনি বুখারী । বয়স ৪৫ এর উপরে । ওনি থাকতো আমাদের কালিয়াকৈরে । ওনাকে ওস্তাদ হিসেবে মেনে নিলাম এবং শুরু করলাম তালিম নেওয়া । আমার আচার ব্যাবহার কথা বার্তা ভক্তি বিশ্বাসে আমাকে অতি আপন করে নিলেন ওস্তাদ বুখারী সাহেব । ব্যাস অল্প দিনেই আমি ওস্তাদজির মনের মতো ছাত্র হয়ে গেলাম । ওস্তাদজি আমাকে প্রাণ ভরে দোয়া করলেন । পাশাপাশি শ্রদ্ধেয় মনির খানের সাথে মাঝে মাঝে যোগাযোগ করতাম ।আজও করি গুরুজি মনির খান বিশাল বড় মনের একজন মানুষ এখনো স্রদ্ধেয় মনির খান আমাকে খুবই স্নেহ করেন। কৃতজ্ঞতা জানাই স্রদ্ধেয় মনির খান কে। তার উপদেশ না মানলে হয়ত আমি এই পর্যন্ত আসতে পারতাম না।আমার শ্রদ্ধেয় দাদাপীর আল্লামা শাহ সুফী হযরত খাজা নওশের চান মির্জাপুরী (র.) । ওনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন ।দাদাজী আমাকে প্রাণ ভরে দোয়া করলেন পাশাপাশি আমার পরিবার থেকে আমাকে আমার বাবা এবং আমার নানিমা সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট করতো তার পাশাপাশি মা,ভাইবোন । প্রতিবেশিরা খুব একটা ভালো চোখে দেখতো না আমাকে । যাইহোক সকলের দোয়া ও আল্লাহর মেহেরবাণিতে ২০০০ সালে আমি প্রথম গান রেকর্ড করি । ২০০১ সালে আমার প্রথম এ্যালবাম “তুমি সেই বান্ধবী” আপনাদের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হয়। এর পরের এ্যালবাম “সুখে থেকো প্রিয়া” । এই শুরু হলো পথ চলা । তখন ও তার পরের সমস্ত ঘটনা বা খবর সবই আপনাদের জানা । শ্রদ্ধা ভরে স্বরন করি সবাইকে যারা শুরু থেকেই আমাকে ভালোবেসে প্রেরণা দিয়েছেন, পাশে থেকেছেন এবং আমার সকল ভক্তদের যাদের ভালবাসায় আজ আমি সকলের ভালোবাসার পাত্র শান্ত হতে পেরেছি । আপনাদের ভালোবাসা পেয়ে আমি গর্বিত । আমার পক্ষ থেকে সকলের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো ।

(কন্ঠ শিল্পী-শান্ত’র ফেসবুক আইডির পোষ্ট থেকে নেয়া)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here