স্টাফ রিপোর্টারঃ-
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মো. এমরান হোসেনের জেল হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বিলের কপির মধ্যে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর না থাকায় ব্যাংকে বিল জমা দিতে পারছেন না বলে আজ রবিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীগন জানিয়েছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে রক্ষার জন্য অন্য কোন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান না করায় বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ফলে চরম বিপাকে পরেছেন অসহায় শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন।
আজ রবিবার মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জেল হাজতে থাকা মো. এমরান হোসেন প্রধান শিক্ষক, মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নিজ বিদ্যালয় ও এলাকাসহ পরীক্ষা কেন্দ্রে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠায় গত ৪ ফেব্রুয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসএসসি পরীক্ষা-২০২০ নিয়ন্ত্রন কমিটির সভাপতি মো. আবদুল মালেক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে কেন্দ্র সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমরান হোসেন, তার সহযোগি ও একই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম (বিএসসিকে) ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষনিক ১৫ দিনের সাজা দিয়ে জেল হাজতে পাঠান। বর্তমানে তারা টাঙ্গাইল জেল হাজতে রয়েছেন। একই দিন পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের দুই ছাত্র ও এসএসসি পরীক্ষার্থী মমিত হাসান এবং সবুজ আল মামুনকে বহিঃষ্কার করা হয়। একই বিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষকের জেল ও দুই শিক্ষার্থী বহিঃষ্কার হওয়ায় এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীগন ও এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম, বিভিন্ন পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির অর্থসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এলাবাসিও তার বিরুদ্ধ ক্ষুব্দ।
এদিকে প্রধান শিক্ষকের ১৫ দিনের জেল হলেও ঘটনার ১০ দিন পার হলেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি অন্য কোন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান না করে তাকে বাঁচানোর নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানুয়ারি মাসের বিলের কপির মধ্যে সভাপতির স্বাক্ষর হলেও প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষর না হওয়ায় অগ্রণী ব্যাংক মির্জাপুর শাখায় বিল জমা হচ্ছে না। ফলে অসহায় শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন ভাতা না পেয়ে চরম বিপাকে পরেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক দোষী বা সাজা প্রাপ্ত হলে বিদ্যালয় সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য পরিচালনা কমিটি সরকারী বিধিমোতাকেব জরুরী সভা আহবান করে অন্য কোন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের ব্যবস্থা করবেন। জেল থেকে জামিনে বের হলেও মামলা শেষ না হওয়ায় পর্যন্ত এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক মো. এমরান হোসেন কোন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কিন্ত বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি সরকারী বিধি লঙ্গন করেছেন। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংক মির্জাপুর শাখা ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর না থাকায় বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিল জমা নেওয়া যায়নি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মঞ্জুরুল কাদরে বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে কেদ্রে এবং বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ম্যানেজিং কমিটির সভা করা যায়নি। শিক্ষক-কর্মচারীগন যাতে কোন সমস্যায় না পরেন দুই এক দিনের মধ্যে জরুরী সভা আহবান করে সমস্যা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আলী হোসেনের সঙ্গে আজ রবিবার যোগযোগ করা হলে তিনিও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বরেন, বিলের কপির মধ্যে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর না থাকায় ব্যাংকে বিল জমা করাযায়নি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here