মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল ঃ-
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে করোনায় ভাইরাসে এক রোগীর আক্রান্ত হওয়ার গুজবে নিজেদের নিরাপত্তাসহ ছুটির দাবীতে কর্মরত শতাধিক নার্স বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শতাধিক নার্স বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ব্যাগ ও মালামালসহ হোস্টেল থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে চাইলে কুমুদিনী হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের প্রধান গেইটে আটকে দেন। এসময় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে আতংক বিরাজ করছে। আজ শনিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। রাতে কুমুদিনী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে চিকিৎসা নিতে আসা ভর্তিকৃত রোগী ও তাদের স্বজন, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
কুমুদিনী নার্সিং স্কুল এন্ড বিএসসি নার্সিং কলেজ ও কুমুদিনী নার্সিং ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত নার্সগন (সেবিকাগন) অভিযোগ করেন, সারা দেশে ঘাতক রোগ করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরেছে। কুমুদিনী হাসপাতালে তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। তাদের অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নার্সদের প্রটেকশন ড্রেস, হ্যান্ড গ্লাবস, ম্যাকসসহ হাত ধোয়ার জন্য সাবান সরবরাহ করছেন না। ফলে তারা নিরাপত্তাহীনায় ভুগছে। আজ শনিবার দুপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পরে। এই খবর কুমুদিনী হাসপাতালের নার্সিং স্কুলের ছাত্রীদের মধ্যে ও ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পরলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। ছাত্রীরা বাড়ি যাওয়ার জন্য নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল ও মেট্রনের অনুমতি নিয়ে হোস্টেল থেকে বের হলে প্রধান গেইটের সামনে এলে নিরাপত্তাকর্মীরা আটকে দেন। তাদের বের হতে না দিলে ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করে।
এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) মি. অনিমেশ ভৌমিক লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করার মত কোন কিট (ঔষধ) আমাদের এখানে নেই। একটি চক্র কুমুদিনী হাসপাতালে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত একজন রোগীর গুজব ফেইজ-বুকে ছড়িয়ে ছাত্রী ও চিকিৎসকদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করছে। নার্সিং স্কুল ও কলেজের ছাত্রীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ আলোচনা করেছেন। এ সময় হাসপাতালেল পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, প্রিন্সিপাল সিস্টার রীনা ক্রুস, মেট্রন দিপালী পেরেরা উপস্থিত ছিলেন। তারা এখন ক্যাম্পাসের হোস্টেলে নিরাপদে রয়েছে। যারা গুজব ছড়িয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হকুমুদিনী হাসপাতারে আতংক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, ঘটনাটি আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here