মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল ঃ-
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে এ রোডে যানজট শুরু হয়েছে বলে হাইওয়ে পুলিশ সুত্র জানিয়েছে। আজ বুধবার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে তীব্র যানজট।
যাত্রী ও পুলিশ সুত্র জানায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারনে দীর্ঘ ছুটির কারনে হাজার হাজার যাত্রী বাড়ি ফিরছেন। এ জন্য মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তিন থেকে চারগুন বেড়ে গেছে। কালিয়াকৈর এর চন্দ্রা হতে নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত যানজটে স্থবির হয়ে পরেছে। আস্তে আস্তে এ যানজট নাটিয়াপাড়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে। মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে দীর্ঘ দিনের ছুটি পরেছে। এক দিকে রাস্তা ভাঙ্গাচোরা, অপর দিকে মহাসড়কের যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে যানজট নিরসনের জন্য থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের গোড়াই-হাটুভাঙ্গা আন্ডার পাস এলাকায় ৫০০শ মিটার ভাঙ্গাচোরা রাস্তা এখন মরণ ফাঁেিদ পরিনত হয়েছে। এক দিকে ভাঙ্গাচোরা রাস্তা, অন্য দিকে আন্ডার পাসের কাজ বন্ধ থাকায় দুই পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা নিত্য দিনের যানজটে এ রোডে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোড়াই আন্ডার পাস এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ভাঙ্গাচোরা রাস্তার দুই পাশে তীব্র যানজট ও ধুলা-বালিতে বেহাল অবস্থা। এমন অবস্থা নিত্য দিনের বলে গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ ও আশপাশের ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দাগন অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ, পরিবহন শ্রমিক এবং যাত্রীরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি এলাকায় আন্ডার পাস নির্মানের কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। সবচেয়ে দুর্ভোগের কারন হয়ে দাড়িয়েছে গোড়াই-হাটুভাঙ্গা এলাকায় আন্ডার পাস। গোড়াই-হাটুভাঙ্গা এলাকায় জমি অধিগ্রহনে জটিলতা দেখা দেওয়ায় বিশাল এলাাকা নিয়ে এই আন্ডার পাসের দুই দিকে কিছু কাজ করার পর নানা জটিলতার কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে। জমি অধিগ্রহনে জটিলতাসহ নানা অযুহাতে কাজ বন্ধ থাকায় মহাসড়কের উপর ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন গর্তে আটকে যাচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৫০০শ মিটার রাস্তা খানা খন্দক সৃষ্টি হওয়ায় ধুলো বালিতে চলাচলকারী যাত্রী ও আশপাশের বাসিন্দারের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতা মো. ফিরোজ হায়দার খান অভিযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনে দুই মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘন্টা। একই অবস্থা মহাসড়কের কদিমধল্যা, জামুর্কি, নাটিয়াড়া, বাঐখোলা, করটিয়া, রামনা আন্ডার পাস ও এলেঙ্গা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশধার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর এ মহাসড়কের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সহজে যোগাযোগের লক্ষে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চারলেন প্রশস্ত করার উদ্যোগ গ্রহন করেন। প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে ২০১৬ সালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেন প্রশস্ত করনের কাজের শুরু হয়। গাজীপুরের ভোগড়া থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত কাজ পেয়েছেন মেসার্স আব্দুল মোনায়েম এন্ড কোং, মীর আক্তার হোসেন জেবি লি.সহ বেশ কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। রাস্তা প্রশসন্ত করন, মাটি ভরাট, অভার ব্রিজ ও আন্ডার পাস নির্মানসহ প্রতিটি কাজ করছেন এই নির্মানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে নির্মান কাজের শুরু থেকেই মহাসড়কে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া জমি অধিগ্রহন নিয়ে চলছে পুকুর চুরির মত ঘটনা। মহাসড়কের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইরের এলেঙ্গা পর্যন্ত অধিকাংশ আন্ডার পাসের কাজ মুখ থুবড়ে পরেছে।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, গোড়াই আন্ডার পাস এলাকায় নিত্য দিনের যানজটের কারনে এখন মহা সংকটে পরিনত হয়েছে। রাস্তা ও আন্ডার পাস নির্মানের কাজ বন্ধ থাকায় যানজট এখন মহা দুর্ভোগের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতি নিয়ত আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যানজট নিরসনের জন্য। আন্ডার পাস নির্মান না হওয়া পর্যন্ত এখানে যানজট ও দুর্ভোগ লাগবের তেমন সম্ভবনা নেই। জমি অধিগ্রহনসহ গোড়াই এলাকায় আন্ডার পাস নির্মানের কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তিনি জোর দাবী জানান।
এ ব্যাপারে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানের (পিডি) মো. আবু ইসহাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন নির্মানের কাজ প্রায় শেষের দিকে। গোড়াই হাটুভাঙ্গা এলাকায় আন্ডার পাস নির্মানের জন্য দুই পাশে জমি অধিগ্রহন নিয়ে একটু জটিলতা ছিল। জটিলতা নিরসন করা হয়েছে এবং ভুমি অধিগ্রহনের টাকা ছাড় করা হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে আন্ডার পাস নির্মান কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here