ad cb under

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করোনার প্রাদুর্ভাগে ১৫০ কিন্ডার গার্টেন ও কেজি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৩০০শ শিক্ষক-কর্মচারী বেতন ভাতা না পেয়ে দুর্বিসহ মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশাপাশি কোমলমতি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মারাত্বক সমস্যা হচ্ছে বলে অভিভাবকগন জানিয়েছেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকগন অভিযোগ করেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও মালিকগন ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের চাপ ও অপরদিকে ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় চরম বিপাকে পরেছেন কিন্ডার গার্টেন ও কেজি স্কুলের মালিকপক্ষ। আজ মঙ্গলবার উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারন সাধারন সম্পাদক বাবু প্রমথেস গোষ্মামী সংকর বলেছেন, করোনা ভাইরাস দুর্যোগে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যারা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত তারা বেকার হয়ে পরেছেন। শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক যে বেতন উত্তোলন হয় সেই বেতনের টাকা দিয়ে শিক্ষকদের সম্মানী দেওয়া হয়। এখন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ফলে বেতন ভাতা না পেয়ে চরম বিপাকে পরেছে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক কর্মচারী।
আজ সোমবার উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন সুত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামা-অঞ্চলে ১৫০ কিন্ডার গার্টেন ও কেজি স্কুল রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার এবং শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১ হাজার ৩০০শ জন। এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা নিজেদের আতœ কর্মসংস্থানের লক্ষে মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, বহুরিয়া, ভাওড়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর এবং বাঁশতৈল ইউনিয়নে এসব কিন্ডার গার্টেন ও কেজি স্কুল গড়ে তুলেন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান সন্তোষ জনক। এছাড়া বার্ষিক ও সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলও ভাল। রেইনবো কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, পাথরঘাটা কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, রোজ ভ্যালি কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক সালেম সিদ্দিকী কর্নেল, সানসাইন একাডেমির ফৌওজিয়া আক্তার সুমী এবং ডালিমনছো কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক মাহমুদ অভিযোগ করেন, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক-স্কুল কলেজ বন্ধ থাকলেও শিক্ষকরা নিয়মিত মাসিক বেতন ভাতা পাচ্ছেন। আমাদের চলতে হয় ছাত্রদের বেতনের টাকায় এবং কোচিং করে। দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন । প্রধান মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিকট কিন্ডার গার্টেন ও কেজি স্কুলের শিক্ষকদের আর্থিক প্রনোদনাসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।
মির্জাপুর উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবুল কাশেম খান বলেন, করোনা সংক্রমনের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পরেছেন। ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন ভাবে টাকা দিতে হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ইতিমধ্যে সহযোগিতা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টির দিকে সু নজর দেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মালেক, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিত ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কিন্ডার গার্টেন ও কেজি স্কুলের শিক্ষকগন বেতন ভাতা না পেয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন এটা সত্য। তাদের সহযোগিতার জন্য সরকারী ভাবে কোন দিক নির্দেশনা পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here