ad cb under

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৃষ্টিতে পানির প্রবল ¯্রােতে ভেঙ্গে গেছে কুমুদিনী হাসপাতাল ঘাট সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর অস্থায়ী ভাবে নির্মিত নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। আজ শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে ঝুঁকির মধ্যে খেয়া নৌকায় লোকজন যাতায়াত করছেন। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্গটনার আশংকা করছেন এলাকাবাসি। ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুর্ভোগে পরেছেন মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। মির্জাপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র (ভারপ্রাপ্ত মেয়র) চন্দনা দে বলেন, কুমুদিনী হাসপাতাল ঘাট সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর বাঁশের সাঁকো নির্মানের জন্য প্রতি বছর জেলা পরিষদ এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অফিস থেকে ইজারা দেওয়া হয়। এটা আমাদের পৌরসভার সাঁকো নয়। বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে গেলে যারা ইজারা এনেছেন তারাই মেরামত করবেন।
জানা গেছে, মির্জাপুর-ভাওড়া-কামারপাড়া একটি গুরুত্বপুর্ন রাস্তা। ভুক্তভোগিদের মধ্যে ভাওড়া গ্রামের লিয়াকত হোসেন খান (৫৫), কামারপাড়া গ্রামের শাহজাহান মিয়া (৬০) সহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মির্জাপুর-ভাওড়া-কামারপাড়া রাস্তার কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর একটি পাকা সেতু নির্মান এলাকাবাসির দীর্ঘ দিনের দাবী। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও তাদের এই দাবী বাস্তবায়ন হয়নি। নদীর উপর পাকা ব্রিজ নির্মান না হওয়ায় চলাচলের ক্ষেত্রে মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলবাসির দুর্ভোগের শেষ নেই। সাহাপাড়া, সরিষাদাইর, ভাওড়া, কামারপাড়া, হাড়িয়াসহ ৩০-৪০টি গ্রামের হাজার হাজার জনসাধারন প্রতি নিয়ত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। নানা জটিলতার অযুহাতে অজ্ঞাত কারনে এখানে একটি পাকা ব্রিজ নির্মান হচ্ছে না বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ নদীটি মির্জাপুর পৌরসভার ভিআইপি এলাকায় হলেও রহস্য জনক কারনে পাকা ব্রিজ হচ্ছে না। এ যেন বাতির নিচেই অন্ধকার। বর্তমান আধুনিক যুগে এখানে পাকা ব্রিজ নির্মান সময়ের দাবী। একটি পাকা সেতু অথবা টানা ফুট অভার ব্রিজ নির্মান হলে কুমুদিনী পরিবার এবং মির্জাপুরের দক্ষিনাঞ্চলের লক্ষাধিক জনসাধারন সহজেই উপজেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে। নদীতে পাকা ব্রিজ অথবা টানা ফুট অভার ব্রিজ নির্মান না হওয়ায় শুকনো মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো এবং বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকার উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকাবাসিকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ঝুঁকির মধ্যে যাতায়াতের ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্বুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নিরীহ এলাকাবাসি।
এদিকে গত মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে ঝড় ও বৃষ্টিতে নদীতে পানির স্্েরাত বেড়ে যাওয়ায় এবং কচুরির পানার সঙ্গে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙ্গে ভেসে যাওয়ায় দুর্ভোগে পরেছেন এলাকাবাসি। গত তিন দিনেও বাঁশের সাঁকো মেরামত না হওয়ায় তিন চার কি. মি ঘুরে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। ফলে দুর্ভোগে পরেছেন এলাকাবাসি। এছাড়া কিছু কিছু লোকজন জরুরী প্রয়োজনে খেয়া নৌকায় ঝুঁকির মধ্যে নদী পার হচ্ছেন। এতে যে যে কোন সময় নৌকা ডুবে প্রাণহানীর আশংকা করেছেন এলাকাবাসি। এই নদীর উপর একটি পাকা সেতু অথবা একটি টানা ব্রিজ দ্রুত নির্মানের জন্য জোরদাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসি।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর পাকা ব্রিজ নির্মানের জন্য ইতিপুর্বে একাধিকবার মাটি পরীক্ষাসহ টেন্ডার হয়েছে। কিন্ত অজ্ঞাত কারনে ব্রিজ নির্মানের কাজ হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম বলেন, কুমুদিনী হাসপাতাল ঘাট সংলগ্ন বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকাবাসি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এমন অভিযোগ পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সাঁকোটি দ্রুত মেরামতের জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here