ad cb under

আলহাজ হোসেন ,কালিয়াকৈর ॥
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার প্রায় ৭২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভার্চ্যুয়াল লানিং সেন্টার’ নামে উপজেলা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। গত শুক্রবার থেকে ওই কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ব্যাপক সারা ফেলেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
গাজীপুর জেলায় এই শিক্ষা কর্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহন করেন কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী হাফিজুল আমিন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে ২৭ হাজার ৬৩০ জন আর বিভিন্ন কিন্ডাগার্ডেনে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার। বর্তমান এই করোনার সময়েও শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তা করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাতে তারা তাদের এই সময়ের একটি বড় অংশ লোখাপড়ায় বা শিক্ষাকার্যক্রমে নিয়োজিত রাখা যায়। দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সর্বস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে ১ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কবে নাগাদ খোলা হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেনা। সংসদ টিভিতে ‘ঘরে বসে শিখি’ নামে একটি ভার্চুয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই কার্যক্রম ঠিক রেখে তাদের নিজ উদ্যোগে নতুন একটি পেইজ খোলা হয়েছে যার নাম দেয়া হয়েছে [শধষরধশধরৎ ঠরৎঃঁধষ খবধৎহরহম ঈবহঃৎব] । সংসদ টিভিতে একবারই সেগুলি দেখানো হয়। যার কারনে কেউ দেখতে না পেলে দ্বিতীয়বার আর দেখার সুযোগ থাকে না। তাই সেই কার্যক্রম গুলি ভিডিও করে তাদের এই পেইজে দিয়ে রাখা হবে। অভিভাবকরা যেকোন সময় তাদের ছেলে-মেয়েদের দেখাতে ও শিক্ষাতে পারবে। তাদের এই পেজে এখন থেকে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস প্রথমে ভিডিও করা হবে এরপরও সেই ভিডিও তাদের নির্ধারিত ওই পেইজে আপলোড করা হবে। এরই মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমিন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম ভিডিও কনফারেন্সের মধ্যমে যোগাযোগ করে বৈঠক করেছেন। সকল শিক্ষার্থীদেও অভিভাবকদের মুঠোফোন নম্বর আগে থেকেই সংরক্ষিত ছিলো। ফোন করে সবাইকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, যেন তারা তাদের সন্তানদের ক্লাসগুলি দেখায়।
এই কার্যক্রমের প্রথম ক্লাস নিয়েছেন উপজেলার ঢোলসমুদ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নছা। তিনি পঞ্চম শ্রেণীর গণিতের ক্লাস নেন। আর দ্বিতীয় ক্লাসটি নেন উপজেলার লতিফপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হাসেম। তিনি পঞ্চম শ্রেণীর ইংরেজী ক্লাস নেন।
সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের কিছুটা হলেও কাজে লাগবে। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে ক্লাস পরিচালনা করা আর খাতা দেখাই নয়। যে কোন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা। ’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম জানান, ‘আমরা নিজেদের উদ্যোগ কাজটি শুরু করেছি। দুই-তিন দিনে এটির ব্যাপক সারাও পাওয়া গেছে। ভিডিওতে নিজেদের শিক্ষকদের দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা আরো মনোযোগ দিয়ে ভিডিও গুলি দেখছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ঘরবন্দি শিশু শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই এই উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য উপজেলা গুলিতেও এমন উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী হাফিজুল আমিন বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে। তারা এখন ঘরে বসে একঘেয়ে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের কথা চিন্তা করেই ওই শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করা। এতে করে কিছুটা সময় হলেও তাদের কাজে লাগবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here