মির্জাপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

0
120

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আসাদুজ্জামনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দূর্গাপুজা উপলক্ষে । এ উপজেলার ম-পে বরাদ্ধকৃৃত চাল উত্তোলনে প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৪০ পয়সা করে ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।

জানা গেছে, এবছর মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ২২০টি ম-পে দূর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ১৬৭টি ম-পে সার্বজনিন এবং ৫৩টি ম-পে ব্যক্তিগত পুজা অনৃুষ্ঠিত হয়। সরকার ১৬৭টি সার্বজনীন পুজা ম-পের জন্য ৫শ কেজি করে ৮৩ টান ৫শ কেজি আতপ চাল বরাদ্ধ দেন। আতপ চাল মির্জাপুরে খাওয়ার রিতি না থাকায় ম-পের সভাপতি ও সম্পাদকদ্বয় ব্যবসায়ীদের কাছে ওই চাল বিক্রি করে দেন।
ব্যবসায়ীরা ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় প্রতি ম-পের চাল ক্রয় করেন। এভাবে ব্যবসায়ীরা ১শ ৪০টি ম-পের প্রায় ৭০ টন চাল ক্রয় করেন। ব্যবসায়ীরা ক্রয়কৃত ওই চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করতে গেলে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার চাহিদা মত ঘুষ না দেয়ায় কর্মকর্তা চালগুলো আটকিয়ে দেন। পরে ব্যবসায়ীরা তার চাহিদামত প্রতি টনে এক হাজার ৪শ টাকা করে দিয়ে চাল উত্তোলন করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে ব্যবসায়ীদের চাল উত্তোলন করতে হলে আমার চাহিদামত টাকা দিয়েই উত্তোলন করতে হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের দিয়ে আমাকে অন্যত্র বদলি করে দেন।
বুধবার সকাল সোয়া দশটার দিকে খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে প্রতি কেজি চাল উত্তোলনে ১ টাকা ৪০ পয়সা করে কেন নেয়া হয়েছে জানতে চান। পরে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ২৮ জন সদস্য এ ব্যবসার সাথে জড়িত। আমাদের হিসাবে খাদ্যগুদামের কর্মকর্তার নামে প্রতি টনে ১৪শ টাকা করে খরচ দেখানো হয়েছে।
মির্জাপুর খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সিবার উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তারা কয়েকজন ব্যবসায়ী পুজা ম-পের সভাপতি ও সম্পাদকদের কাছ থেকে প্রায় ৭০ টন চাল ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত চাল গুদাম থেকে বের করতে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে প্রতি টনে ১ হাজার ৪শ টাকা করে দেয়া হয়েছে। টাকা না দেয়ায় তিনি চাল বের করতে দেননি বলে অভিযোগ করেন। আমারা ২৮ জন ব্যবসায়ী টানা ১০/১২দিন পরিশ্রম করে ক্রয়কৃত চাল অন্যত্র বিক্রি যে টাকা পেয়েছি তাতে একজন দিনমজুরের সমান টাকাও পায়নি। তাছাড়া সরকারি কর্মকর্তা বসে থেকেই হুমকি দিয়ে এতো টাকা নেবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হওয়া উচিত।
খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাল উত্তোলনে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কত টাকা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন টাকা নেননি। পরে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিবার উদ্দিন তার উপস্থিতিতেই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা প্রতি টনে ১৪শ টাকা নিয়েছেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মির্জাপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, কে আমাকে টাকা দিয়েছেন। আমাকে টাকা দিলে আমি টাকা নেব। এখন পর্যন্ত আপনি টাকা পাননি জানতে চাইলে নিরোত্তর থাকেন। তাছাড়া আপনার চাহিদা মত টাকা না দেয়া হলে অন্যত্র বদলি করার বিষয়টি বলেছেন কথাটি কতটুকু সত্য। পরে কিছু সময় নিরব থেকে বলেন, বিষয়টি ওভাবে বলা হয়নি। ব্যবসায়ীরা অন্যায় দাবি করেন বলেই এ কথা বলেছি।

মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কনক কান্তি দেবনাথের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।