কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

0
8128
Loading...

চিকিৎসকদের চরম অবহেলায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।ঘটনার পর রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল ভাংচুর ও চিকিৎসক এবং নার্সদের উপর হামলার চেষ্টা চালায়।অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসক ও নার্সরা পালিয়ে যায়।পুলিশ ও আনসার বাহিনী খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছেন।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জাপুর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সাকিম উদ্দিনের ছেলে মো. আলাল উদ্দিন(৫৫) বুকে ব্যথা নিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালের নিচ তলায় এমএমসি ওয়ার্ডে ভর্তি হন।হাসপাতালে ভর্তির পর তার বুকের ব্যথা আরও বাড়তে থাকে।তার বোন ফিরোজা বেগম(৪৫) ও ভাতিজা আলামিন(২৬)সহ স্বজনা ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সদের দ্রুত চিকিৎসাপত্র দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।এ সময় চিকিৎসকরা কানে মোবাইলের হেডফোন দিয়ে গান শুনতে ছিলেন এবং ফেইসবুক ব্যবহার করতে ছিলেন।চিকিৎসকরা উল্টো তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অসৌজন্য মুলক আচরন করেন এবং তাদের হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।চিকিৎসকদের কাছ থেকে তারা ফিরে এসে দেখেন আলাল উদ্দিন বুকের ব্যথায় ছটফট করে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।এ সময় নার্সরা এসে ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় তার হাত-পা কাল ও নীল হয়ে অল্পক্ষন পরেই তিনি মারা যান।
ফিরোজা বেগম ও আলামিন অভিযোগ করেন, চিকিৎসক ও নার্সদের চরম অবহেলা ও গাফিলতির কারনে তাদের রোগী আলাল উদ্দিন মারা গেছেন।এদিকে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় আলাল উদ্দিন মারা গেছে এই ঘটনা তার স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পরলে হাসপাতালে এসে ভিড় জমায় এবং হাসপাতালের আসবাবপত্র ভাংচুরসহ ডাক্তার ও নার্সদের উপর হামলার চেষ্টা করেন।অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তার ও নার্সরা পালিয়ে যায়।পুলিশ ও আনসার বাহিনী খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছেন।
এদিকে ঘটনার জানতে কুমুদিনী হাসপাতালে গেলে ওয়ার্ডে চিকিৎসারত বেশ কয়েকজন ভর্তিকৃত রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলছে হয-ব-র-ল অবস্থা।এখানে কেউ কারও কথা শুনছে না। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের অবহেলায় একের পর এক রোগী মারা যাচ্ছে।কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগ করার পরও ন্যায় বিচার হচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন।নিহত আলাল উদ্দিনের পরিবার হাসপাতালের দায়ী চিকিৎসক ও নার্সদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।আলাল উদ্দিনের মত্যুর ঘটনার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তদন্তে দোষী প্রমানিত হলে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক মিজানরে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পর পরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল।পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।নিহতের পরিবার থেকে কোন লিখিত অভিযোগ এখন পর্যন্ত আসেনি।

(Visited 8,709 times, 1 visits today)