নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সারোল গ্রামে ছাগলে পাটগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে সৈয়দ আহম্মাদ আলী ওরফে লিপু (৪১) নামে একজন কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

নিহত সৈয়দ আহম্মাদ আলী ওরফে লিপু (৪১) সারোল গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সৈয়দ মরফুদ আলীর ছেলে।

খুনের ঘটনার পর দুপক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন কমবেশি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের হামলায় ৩টি বাড়ি ভাংচুর করা হয়। বর্তমান ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দিঘলিয়া ইউপির সারোল গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য আশরাফুল আলম সমর্থিত লোকজনদের সঙ্গে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য খোকন শেখ সমর্থিত লোকজনদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল।

গত শুক্রবার দুপুরে সাবেক ইউপি সদস্য খোকন শেখ সমর্থিত নিহত সৈয়দ আহম্মাদ আলী লিপুর ছাগলে প্রতিপক্ষ মিরাজ বিশ্বাসের ক্ষেত থেকে পাট খায়। এ ঘটনা নিয়ে উভয়পক্ষের লোকজনদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে আসছিল।

এর জের ধরে রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সৈয়দ আহম্মাদ আলী ওরফে লিপু স্থানীয় বৌ বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা বর্তমান ইউপি সদস্য আশরাফুল আলম সমর্থিত বোরহান, সাইফুল, মিরাজ, সোহানসহ ৮-১০ জন তাকে ঘিরে ধরে এবং রামদা ও ছ্যানদা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

এলাকাবাসী আহত লিপুকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

লিপুর নিহতের খবর এলাকায় পৌঁছালে বিবাদমান দুটি পক্ষ ঢাল, সড়কি, রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় হোসনে আরা বেগম, হান্নান শেখ,কিবরিয়া মোল্যা, সকু, হীরাঙ্গীর,শান্ত, শরিফুল আহত হয়। আহতদের লোহাগড়া, নড়াইল যশোর ও খুলনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে বোরহান, শরিফুল, মিরাজ ও আশরাফুল আলমের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।

খবর পেয়ে লোহাগড়া থানার ওসি প্রবীর বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুপুরে নড়াইলের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরফুদ্দিন, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সিকদার আ. হান্নান রুনু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

লোহাগড়া থানার ওসি প্রবীর বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় বর্তমান ইউপি সদস্য আশরাফুল আলমসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

SHARE