মধুপুরে চলন্তবাস রুপা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারসহ ৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন

0
184
Loading...

মধুপুরে চলন্তবাস রুপা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারসহ ৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন

আশিকুর রহমান,টাঙ্গাইল থেকেঃ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ঢাকার আইডিয়াল ল’কলেজের ছাত্রী রুপা
খাতুনকে গণধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আদালতে আজ মঙ্গলবার ৬ষ্ঠ বারের মতো
ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার সাইদুর রহমানসহ ২জন সুরতাহল রিপোর্ট ও ১ জন জব্দ
তালিকার পুলিশ সাক্ষীসহ ৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছে। এনিয়ে
মামলার বাদিসহ ১৯ জনের আদালতে সাক্ষি ও জেরা সমাপ্ত হলো। আগামীকাল বুধবার
মামলার আসামীদের ১৬৪ ধারা জবানবন্দি লিপিবদ্ধকারী ৪ ম্যাজিস্ট্রেট
সাক্ষির জন্য আদালত দিন ধার্য করেছে।

টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া দুপুর ১২
টায় এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন।
প্রথমে নিহত রুপার ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার সাইদুর রহমান আদালতের কাঠগড়ায়
সাক্ষ্য প্রদান করেন। তিনি তার সাক্ষীতে রুপার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায়
আঘাত জনিত কারনে মৃত্যু হয়েছে বলে জানান এবং ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে।

পরে ঘন্টাব্যাপি আসামী পক্ষের আইনজীবিরা তাকে জেরা করেন। পরে জব্দ
তালিকার সুরতাহল রিপোর্টের সাক্ষি কিশোর, মান্নান ও ১ জন জব্দ তালিকার
সাক্ষি মো. আব্দুল হান্নান সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে আসামীপক্ষের
আইনজীবিগণ সাক্ষিদের জেরা করেন। দুপুর ২টায় আদালতের কার্যক্রম মুলতবি হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপা খাতুনকে
চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের
মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে।
ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে
দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল
ইসলাম বাদি হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

রুপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে রুপাকে সনাক্ত করেন।
পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫)
এবং সহকারি শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) কে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের কাছে তারা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। ২৯ আগস্ট
বাসের তিন সহকারি শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং
সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা সবাই
এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আছে।
৩১ আগস্ট রুপার লাশ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্থান্তর করা হয়। পরে
তাকে সিরাজগঞ্জের তাঁরাশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

(Visited 14 times, 1 visits today)