নড়াইলে পূজামণ্ডপে ডিউটি ভাতায় রমরমা ঘুষ বাণিজ্য

0
47

মোঃ হিমেল মোল্যা, নড়াইল: নড়াইল সদর উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের ভাতার টাকার চারভাগের একভাগ ঘুষ হিসেবে দিতে হয়েছে। পূজার ডিউটিতে নাম দেওয়ায় ইউনিয়ন দলনেতা ও দল নেত্রীদের এসব টাকা দিতে হয়েছে বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন ৫ দিন ডিউটি করে প্রাপ্ত ১ হাজার ৬শত টাকা ভাতার ৪শ থেকে ৫ শ টাকা দিয়ে দিতে হয়েছে দলনেতা ও দল নেত্রীদের। এ ঘটনায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ আনসার সদস্যরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় ২৬৬টি পূজামণ্ডপে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি ১ হাজার ৪৯৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। নিয়মানুযায়ী প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে দলনেতা (আনসার-ভিডিপি সদস্য) সাধারণ আনসার সদস্যদের ৫ দিনের ডিউটির জন্য জেলা কমাড্যান্টের কার্যালয়ে সুপারিশ করবে। সে অনুযায়ী তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। ৫ দিনের ডিউটির জন্য দলনেতা এবং প্লাটুন কমান্ডারদের ১ হাজার ৭৫০ টাকা এবং সাধারণ আনসারদের ১ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়ার কথা।

অভিযোগ উঠেছে, ডিউটিতে নাম দেওয়ার অজুহাতে কাজে যোগ দেওয়ার আগেই অধিকাংশ দলপতি বা দলনেত্রী সাধারণ আনসার সদস্যের কাছ থেকে ৪শ থেকে ৫শ টাকা করে ঘুষ নিয়েছে।

নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের আগদিয়ার চর গ্রামের আনসার সদস্য বলদেব সান্যাল জানান, তার গ্রুপের দলনেতা নলদীর চর গ্রামের আসাদ মিয়া পূজায় ৫ দিনের ডিউটি দেওয়ার জন্য আগেই ৫শ করে টাকা নিয়েছে।

মির্জাপুর পূর্বপাড়া মন্দিরে দায়িত্ব পালনকারী মিলন সিকদার, শাকিল, এনামুল ও আছিফ জানান, তারা প্রত্যেকে দলনেতা আনসার-ভিডিপি সদস্য লাকি পারভীনকে ৫শ টাকা করে দিয়েছেন।

কলোড়া ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের মেহেরুন্নেসা, আকলিমা, জাহিদা সিকদার, আকবর শেখ, নাসলিমা বেগম জানান, তারা প্রত্যেকে ডিউটির পূর্বে দলনেতা বিভা রানীকে ৪শ টাকা করে দিয়েছেন।

এসব ভুক্তভোগীরা জানান, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা ৫দিন ডিউটি করতে হয়েছে এবং নড়াইল শহরে ২ দিন আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন ধরনের খরচ থাকে। সামান্য টাকা সম্মানীর মধ্যে আবার ঘুষই যদি ৪শ থেকে ৫শ টাকা দিতে হয় তাহলে এই ডিউটি করে লাভটা কি?

অভিযুক্ত বিভা রানী টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, কয়েক জায়গায় এসব অর্থ দিতে হয়। সাধারণ আনসার সদস্যদের কাগজপত্র তৈরি, বিভিন্ন মণ্ডপে যাওয়া-আসাসহ বিভিন্ন খরচ-খরচা থাকে। সেইজন্য তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলা আনসার-ভিডিপি অফিসের উপজেলা প্রশিক্ষক মো. জসিমুদ্দিন জানান, সদর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৯৪ জন আনসারকে শ্রেণিভেদে ১ হাজার ৭৫০ এবং ১ হাজার ৬ শত করে টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে এই অর্থ দেওয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার আনসার সদস্যকে সম্মানীর টাকা দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত অনিয়মের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান বলেন, এই ধরনের অভিযোগ গত বছরও পেয়েছি। এ বছরও প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ শত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। এ ধরনের অনৈতিক লেনদেনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।