খামারবাড়িতে ডিমের জন্য মিছিল

0
20

কৃষি: বিশ্ব ডিম দিবস-২০১৭ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আয়োজনে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে তিন টাকায় প্রতি পিস ডিম বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়। গত কয়েকদিন ধরেই তিন টাকায় ডিম বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরব ছিলেন ব্যবহারকারীরা।

শুক্রবারের মেলায় প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ৯০টি করে ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও মানুষের চাপ দেখে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্যাকেট করা হয় ২০টি করে। মানুষের হুড়োহুড়ি আর ধাক্কাধাক্কিতে আয়োজকেরা প্যান্ডেল থেকে ডিম দেওয় বন্ধ করে দেন। ধাক্কাধাক্কিতে একপর্যায়ে ডিম বিতরণের জন্য তৈরি অস্থায়ী মঞ্চ ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতির সামাল দিতে ডিম কিনতে আসা মানুষের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ‘এবারের সংগ্রাম ডিম পাওয়ার সংগ্রাম’ বলে মেলা প্রাঙ্গণে অবস্থানরত অনেকে যেমন স্লোগান দিয়েছেন তেমনি আয়োজকদের পক্ষ থেকে ‘বিপুল প্রচারণা এবং যথাযথ পরিকল্পনা না থাকা’র কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করে আয়োজকদের সমালোচনায় মেতে উঠেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

শাহ ইমরুল কায়েস নামের এক ব্যবহারকারী এই মেলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, তিন টাকার ডিম খেতে ইচ্ছা করছে। আসলেই কি তিন টাকায় ডিম বিক্রির মেলা করার দরকার ছিল? এই মেলার উদ্দেশ্য কি ছিল? ডিম সংক্রান্ত সচেতনেতা বৃদ্ধি? যেই দেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত মাছ মাংসের উচ্চমূল্যের কারনে অনেকাংশে শুধু ডিমের উপর বেঁচে আছে সেখানেও এমন জনভোগান্তির ডিম সচেতনেতার ‘ডিম মেলার’ দরকার ছিল? কি জানি বাপু, কিছুই তো দেখি বুঝি না।
এহছান রশীদ রাজু নামের এক ব্যবহারকারী লিখেন, তিন টাকায় ডিম কেনা নিয়ে এই অবস্থা দেখে বুঝা যায় বাংলাদেশের মানুষ কতো সুখে আছে! দেশকে সিঙ্গাপুর বানানোর কথা বলে আফ্রিকার দারিদ্রপিড়ীত দেশের কাতারে নেয়া হয়েছে। দস্যুদের কবলে দেশ! সর্বত্র শুধু নির্যাতিত নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষদের আর্তনাদ আর হাহাকার!
কানাডায় অবস্থানরত বাঙালী মাহবুবল হক ওসমানী লিখেন, মোরা একটি ডিমকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি!
এই বিশৃঙ্খলার জন্য আয়োজকদের দায়ী করে এম এ জব্বার নামের এক ব্যবহারকারী লিখেন, দুই কোটি জনবসতির ঢাকা শহরে মাত্র ২০ হাজার ডিম দিয়ে ‘ডিম দিবস’ পালন করতে স্পর্ধা দেখিয়েছেন! ডিম দিবস আয়োজন করতে জনগণের ট্যাক্সের কত টাকার শ্রাদ্ধ হয়েছে তা আয়োজকদের কাছ থেকে আদায় করে এদের চাকরি থেকে সরাসরি অব্যাহতি দিন। এতে প্রতারিত জনতার ক্ষোভ অন্তত কিছুটা হলেও প্রশমিত হত।

Loading...
Loading...